নাছির উদ্দিন সোহেল, মহেশখালী;
মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে বনভূমি দখল ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে শাপলাপুর বিট এলাকায় বন বিভাগের দায়িত্ব পালনে বাধা, সরকারি বনভূমি রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মহেশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী মো. আবদুর রহমান ইসলাম (৪১), যিনি উপকূলীয় বন বিভাগের অধীন মহেশখালী রেঞ্জের শাপলাপুর বিটে কর্মরত। এজাহারে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইমরান (২৫), মুহাম্মদ সেলিম (২৭), আবুল কাশেম (৭০), নুরুল আবছার (৫৫), আলী হোসাইন (২৭), জামাল (৩৫), আবছার (৩৫), গুরা মিয়া (২৮), জাকির আলম (৩৬), রশিদ (৪০), সাজ্জাদ (২৫), মো. মানিক, আবু জাফর (৩০), মো. সজিব (২৫), আজিজ (২০), মোশারফ হোসেন (৩০), জামাল ভূইয়া (২৫), মো. আজিজ (৩২), জসিম উদ্দিন (৩০), আরাফাত (২৫), শামসুল আলম (৪৫), লাইলা খাতুন (৫০), রহিমা বেগম (৪০), শাহিন (২০) ও রহিম (৪৮)। এছাড়া আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বন বিভাগের দাবি, শাপলাপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। সেখানে কর্তব্যরত বনকর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয় এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। সরকারি বনসম্পদ রক্ষা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
তবে বন বিভাগের এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বাগান ও বসতভিটার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে উচ্ছেদের ভয় দেখানো ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হতে পারে।
মামলার ১৪ নম্বর আসামি মো. সজিব দাবি করেন, ঘটনার দিন জেএম ঘাট এলাকায় বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, সে সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
তার ভাষ্য, “ঘটনার সময় আমি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ঘুম থেকে উঠে বাজারে এসে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও কিছু দালালের কথার ভিত্তিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও আইনগত পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পুরো শাপলাপুর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
